Home / সম্পাদকীয় / বুকবিল্ডিংয়ের কারসাজিতে অসহায় পুঁজিবাজার

বুকবিল্ডিংয়ের কারসাজিতে অসহায় পুঁজিবাজার

বারবার সংশোধন করা হলেও বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কারসাজি রয়েই গেল। পাবলিক ইস্যু রুলস নতুন করে তৈরি করলেও ফাঁকফোকড় থাকার কারণে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কারসাজির সুযোগ আরো বেড়ে গেছে। কারণ ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার আইন থাকলেও বুক বিল্ডিংয়ে এ সংক্রান্ত কোন নিয়ম রাখা হয়নি।

আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাষ্ট্রিজ নানা কৌশল অবলম্বন করে মাত্র ০.৯৮% শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ছে। বাকি শেয়ারগুলো পরিচালকদের হাতে রেখে দিয়েছে। যাতে পরবর্তীতে ওয়ালটনের শেয়ার সংকট তৈরি করে এর দর আকাশচুম্বী করে পুঁজিবাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা বের করে নিতে পারে। ওয়ালটনের বিডিংয়ের সময় বিভিন্ন ইলিজিবিল ইনভেস্টরদের টাকা দিয়ে দর বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অস্তিত্বহীন ফেক কোম্পানি দিয়ে ওয়ালটনের বিডিং প্রাইস বাড়ানো হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকায় তারা বিষয়টি গায়ে লাগায়নি। কারণ প্রভাবশালী কোম্পানি হিসেবে ওয়ালটনের বিপক্ষে কমিশনের কিছু করার থাকলে তারা এতো উচ্চমূল্যে আইপিও’র অনুমোদন দিতো না। সবাইকে নিরব দর্শক বানিয়ে চোখের সামনে থে‌কে বিপুল অর্থ বের ক‌রে নেবে  ওয়ালটন। বিষয়টি এমন যে চোখ আছে দেখতে হবে, কান আছে শুনতে হবে কিন্তু মুখে কিছু বলা মানা। সামনে এনার্জিপ্যাক এবং মীর আক্তার হোসেনের বিডিং শুরু হবে। এসব কোম্পানিগুলোতেও চলছে কারসাজির নীল নকশা। কারণ ইলিজিবল ইনভেস্টরদের ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। অন্যদিকে মীর আক্তার হোসেন ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এতো বিপুল পরিমাণ অর্থের বিডিংয়ের জন্য ১৫০ থেকে ৩০০ ইলিজিবল ইনভেস্টরের প্রয়োজন। আর তার জন্য কোম্পানিগুলোকে বাধ্য হয়েই নানা কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির যেই বিতর্ক আগে ছিল সেটি এখনো রয়ে গেছে। তাই বর্তমান কমিশনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনি দুর্বলতায় নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠি সুবিধা ভোগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

Check Also

ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হোক

যদিও পুঁজিবাজারের কোন থিউরির মধ্যে ফ্লোর প্রাইস পড়ে না। যখন বাজার খুব বেশি পরিমাণে পড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *