Home / সাক্ষাৎকার / একমাত্র কৌশল যা বর্তমান বাজারে বায়ার আসতে পারে

একমাত্র কৌশল যা বর্তমান বাজারে বায়ার আসতে পারে

বাংলাদেশের সকল শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কে বিশেষ অনুরোধ এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং যার যে ক্ষমতা তা দিয়ে এই লেখাটি সঠিক জায়গায় পাঠানোর চেষ্টা করেন। কারন বতর্মান এ শেয়ার বাজারে বায়ার না থাকায় যে অবস্থা চলছে তা উদ্ধার এর জন্য এই একমাত্র টনিকটাই পারে এই অবস্থা থেকে পরিএান পেতে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের একটা স্থিতিশীল বাজার এর কামনাপূর্ণ হল না।

যখনই বাজার ভালো হবার সুযোগ সৃষ্টি হয় তখনই প্রাকৃতিক দূর্যোগ হোক বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা হোক বা দুষ্ট চক্রের পরিকল্পিত কৌশল হোক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুরদর্শীতার অভাবেই হোক না কেন বাজার ভালো স্থিতিশীল হবে হবে করে আর হয় না। এ যেন বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা কামনা করা একটা সোনার হরিণ কামনা করার মত হয়ে পড়েছে।আর এর জন্য অনেকেই দায়ী যেমন সাধারণ বিনিয়োগ কারীদের অপরিপক্কতা অসচেতনতা এবং অতিলোভ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কারীদের দক্ষতার অভাব এবং ড্রে ট্রেডিং এ অভ্যস্ত হয়ে পড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান ICb এর খামখেয়ালী ও দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করে ফান্ড ব্লক করা এবং ফান্ড অপ্রতুলতার দরুন নিষ্ক্রিয় থাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর ভুল সিদ্ধান্ত ও কিছু দুষ্টু ব্যক্তির ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের নিষ্ঠুর আচরণ ও ভুল বিনিয়োগ প্রন্থা অবলম্বন করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অতি মাত্রায় IPO শেয়ার বাজারে নিয়ে এসে ডিমান্ড এর চেয়ে সাপ্লাই বাড়িয়ে দেওয়া এবং বাজার স্থিতিশীল করার স্বার্থে সঠিক ও দুরদর্শী পরিকল্পনা না গ্রহন করা এগুলো প্রধাণত দায়ী।

গত বছর জুলাই মাসের পর যখন সবাই একটা স্হিতিশীল বাজারের আশায় মুখিয়ে ছিল তখন হঠাৎ করেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার সেল প্রবনতা বাড়তে থাকে। এভাবে বাজার আস্তে আস্তে সূচক কমতে থাকে। এক সময় তারা বলতে থাকে তাদের ফান্ড নাই এবং শেয়ার ব্যবসার নতুন ফান্ড দরকার যার ফলে বাজারে সূচক ও লেনদেন কমতে থাকে। একটা সময় তারা সহজ শর্তে অল্প সুদে লোন এর দাবী করে। এর মধ্যে অলরেডি অনেক সময় গড়িয়ে যায় এবং সূচকও ৪১০০ এর লেবেলে চলে আসে।

এমতাবস্থায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে এবং অবশেষে তাদের দাবি অনুযায়ী ১২ হাজার কোটি টাকার ফান্ড এর ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মতি দেয় শেয়ার বাজারের স্বার্থে। এত কিছুর পরও মার্চেন্ট ব্যাংক গুলো শেয়ার কিনতে গড়িমসি করতে থাকে। আর এই অবস্থা চলতে চলতেই সময় পার হয়ে মাস পার হয়ে মার্চ মাস চলে আসে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির প্রবনতা বাড়িয়ে দেয়। বাজারে লেনদেন ও সূচক আরও কমতে থাকে। শুধু তাই নয় এরপর আসে মরার উপর খাড়ার ঘা সারা পৃথিবী জুড়েই শুরু হয় করোনা নামক মহামারীর তান্ডব যার ফলে সারা পৃথিবীর শেয়ার বাজারে ব্যপক ধস শুরু হয় এবং বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে এর প্রভাব ব্যাপক ভাবে পড়তে থাকে।

এমন অবস্থায় সূচক ৩৭০০ লেবেলে চলে আসে। এমতাবস্থায় সারাদেশে বিনিয়োগকারীদের কান্নার রোল পড়ে যায় যার ফলশ্রতিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদরপ্রসারী এবং অকল্পনীয় একটা মহতী plan BSEC দ্বারা বাস্তবায়ন করা হয় যার নাম দেওয়া হয় Floor Price।

যার সুফল বিনিয়োগ কারীরা সাময়িক ভাবে স্বস্তিবোধ করে এবং সূচকের নিন্মমুখীতার লাগাম টেনে ধরা হয়। কিন্ত বিধিবাম সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। অবশেষে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয় এবং এর ফলে শেয়ার বাজার ও বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ ২ মাসেরও বেশি দিন বন্ধ থাকার পর শেয়ার বাজার পুনরায় নতুন কমিশনের মাধ্যমে চালু হয়। ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের বহু আকাঙ্খিত সমালোচিত BSEC এর খাইরুল কমিশন এর বিদায় ঘটে।

ইতিমধ্যে নতুন কমিশন গঠন হয় এবং বিনিয়োগকারীরা পুনরায় আশার আলো দেখতে থাকে। নতুন কমিশন এসেই বাজার চালু সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত বৈঠকে বসে যা খুবই পজেটিভ দিকেরই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু এত কিছুর পরও বাজার নিয়ে দুষ্ট চক্র গুজব ছড়াতে থাকে floor price নিয়ে এমনকি তারা বিনিয়োগ পযর্ন্ত বন্ধ রাখে।

Floor price নিয়ে দুই পক্ষ তৈরি হয়ে যায়। এক পক্ষ এর পক্ষে অবস্থান নেয় যার পক্ষে তাদের যুক্তি এর ফলে শেয়ারের দাম আর কমবেনা বরং বাড়বে যার দরুন বিনিয়োগ কারীরা অন্তত আর ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা। অপর পক্ষে যারা এর বিপক্ষে যারা তাদের যুক্তি হল floor price এ শেয়ার এ লেনদেন কম হবে এবং বায়ার পাওয়া যাবে না যদিও দেশের ৮০% বিনিয়োগকারীই floor price এর পক্ষে। তবুও এর বিপক্ষের যুক্তি কিন্তু একেবারেই ফেলনা নয় যার প্রমান অলরেডি বতর্মান বাজারে প্রতিয়মান।

সুতরাং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য স্হিতিশীল বাজার পাওয়ার আশা পুনরায় অধরা রয়ে গেল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এমন কোন কৌশলী সিদ্ধান্ত কি নেওয়া যায়না যার সুফল সকল শ্রেনীর বিনিয়োগকারী পাবে এবং বাজারে পুনরায় গতিশীলতা আসবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করি বর্তমানের এই বাজারের জন্য একটা শক্তিশালী টনিক ছাড়া ভাল হওয়া সম্ভব নয়। আর এই টনিকটা হল একটা মাত্র পলিসি সাপোর্ট যা বতর্মান শেয়ার বাজার কে ১০০% চাঙ্গাভাব করতে বাধ্য। আর এই পলিসি সাপোর্টটা বাস্তবায়ন করতে আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারী BSEC এর নব গঠিত কমিশনকে জোর দাবী জানাই।

আর পলিসিটা হল:

১. BSEC কে ঘোষণা দিতে হবে যে সূচক ৫৫০০ পযর্ন্ত না যাওয়া পযর্ন্ত বতর্মান FLOOR PRICE বলবৎ থাকবে।

২. বাজারে একটা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সেটা হল বতর্মান Floor price বেসিক বা আপাতত স্হায়ী floor price ঘোষণা করা।

৩. নং হল একটা গুরুত্বপূর্ণ এ জাদুকরী ও কৌশলী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সেটি হল এখন থেকে মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষের দিন বৃহস্পতিবার প্রতিটি শেয়ারের দাম বর্তমান বেসিক Floor price থেকে ৩% দাম বাড়িয়ে নতুন নুন্যতম floor price ১ সেট করা। তবে উল্লেখ্য যে যদি কোন শেয়ারের দাম ৩% এর অধিক ও বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে। এবং ২য় সপ্তাহে ট্রেড শুরুর দিন floor price ১ বা কোন শেয়ারের দাম floor price এর চাইতে বেশি দামে লেনদেন হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে এর দাম ঐ বৃদ্ধি দিয়েই ওপেন price ধরা হবে। তবে ২য় সপ্তাহের প্রথম দিন যেকোনো শেয়ারের দাম floor price ১ এর চাইতে বৃদ্ধি অথবা কমে লেনদেন হতে পারবে কিন্তু কোন ক্রমেই বেসিক floor price এর কমে লেনদেন হতে পারবেনা। এবং আবারও ২য় সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আবারও floor price ১ এর চাইতে আরও ৩% বৃদ্ধি করে floor price ২ নামে সেট করা হবে এবং আবার ও একই ভাবে লেনদেন হয়ে যে কোন শেয়ারের দাম floor price ২ এর চাইতে বেশি থাকতে পারবে সেটা সেই শেয়ারের close price হিসেবে নির্ধারিত হবে যা ৩য় সপ্তাহের প্রথম দিন ওপেন price হিসেবে বিবেচিত হবে।

একই ভাবে ৩য় সপ্তাহের শেষের দিন বৃহস্পতিবার আবারও floor price ২ এর চাইতে আরও ৩% যোগ করে floor price ৩ নামে সেট করা হবে এবং আবারও একই ভাবে লেনদেন হয়ে যে কোন শেয়ারের দাম floor price ৩ এর চাইতে থাকতে পারবে সেটা সেই শেয়ারের close price হিসেবে নিধারিত হবে যা ৪র্থ সপ্তাহের প্রথমদিন open price হিসেবেই বিবেচিত হবে।

আর এভাবেই floor price ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ এভাবেই floor price ১২ পযর্ন্ত চলতে থাকবে। আর এভাবে চলতে চলতে বাজারে ব্যাপক গতিশীলতা আসবে। এবং এর ফলে বাজারে ব্যাপক সুফল পাওয়া যাবে। যেমন:

১. বাজারে সকল শেয়ারের বায়ার আসবে।

২. যথেষ্ট লেনদেন বৃদ্ধি পাবে।

৩. বিনিয়োগকারীরা সর্ট ট্রাম ও লং ট্রাম দুটোরই সুযোগ পাবে।

৪. বাজারে শেয়ারের দাম উঠানামার একটা ভারসম্য আসবে।

৫. বাজারে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ করার প্রবনতা বেড়ে যাবে যার ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।

৬. বাজারে সকল শ্রেনীর বিনিয়োগকারীরা পুঁজির নিরাপত্তা বিধান পাবে।

৭. সবাই নিশ্চিতরূপে আশ্বস্ত থাকবে যে লাভ পাবে। বাজারে নতুন নতুন কৌশলী বিনিয়োগকারীর আর্বিভাব ঘটবে।

৮. বাজারে বড় বিনিয়োগকারীরা যারা শেয়ার বাজারের প্রান তারা পুনরায় বিনিয়োগে ফিরবে।

৯. সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও আস্তে আস্তে বিনিয়োগে কৌশলী হবে। এছাড়াও আরও অনেক সুফল আসবে।

তাই আমরা সাধারণ বিনিয়োগ কারীরা মনে করি নতুন কমিশন বিষয়টি যাচাই বাছাই করে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে অতিদ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন আর পুঁজিবাজার তথা দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে তথা সকল শ্রেনীর বিনিয়োগ এর পরিবেশ তৈরি করতে বর্তমানে এটাই একমাত্র কৌশলী ও সঠিক উপায়।

লেখক ও শেয়ার গবেষক এবং ইনভেস্টর
এম এ চয়ন, রাজশাহী।

ডেইলি শেয়ারবাজার/মাজ.নিসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *