Home / আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার / করোনা ঝড়ের প্রভাব : ব্যপক দরপতনে বিশ্ব শেয়ারবাজার

করোনা ঝড়ের প্রভাব : ব্যপক দরপতনে বিশ্ব শেয়ারবাজার

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:

করোনা ঝড়ের প্রভাবে ভয়াবহ দরপতন হয়েছে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজার । গেল সপ্তাহে বিশ্ব শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ দরপতন হয়েছে আগে খুব কমই এরকম হয়েছে। মূলত করোনা ভাইরাস সহ বিশ্ব পরিস্থিতি মন্দাবস্থার কারণে ইউরোপ, আমেরিকার বড় বড় শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন চলছে। যার বিশাল একটি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ইতিমধ্যেই বৈশি^ক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

অন্তত ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। এর প্রভাবে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিমান পরিবহন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন। ব্যবসা-বাণিজ্যও হারিয়েছে তার স্বাভাবিক গতি। ফলে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। প্রভাব মুক্ত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারও।

নিম্নে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারের চিত্র তুলে ধরা হলো:

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার:  ব্যাপক দরপতনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ শেয়ারবাজার। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ডাউ জোন্সের সূচক সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ১.৩৯ শতাংশ বা ৩৫৭.২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৪০৯.৩৬ পয়েন্ট। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ১২.৩৬ শতাংশ কমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ইনডেক্স ০.৮২ শতাংশ বা ২৪.৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৯৫৪.২২ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে এসঅ্যান্ডপি’র সূচক ১১.৪৯ শতাংশ কমেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক আগের দিনের চেয়ে ০.০১ শতাংশ বা ০.৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৬৭.৩৭ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে নাসডাকের সূচক ১০.৫৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের কম্পোজিট ইনডেক্সে সূচক আগের দিনের চেয়ে ১.৩৩ শতাংশ বা ১৬৬.২৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২৩৮০.৯৭ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে নিউইয়র্ক কম্পোজিট সূচক ১১.৪১ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপের শেয়ারবাজার:   আমেরিকার মতো ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ভয়াবহ দরপতন হয়েছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই-১০০ ইনডেক্স গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ৩.১৮ শতাংশ বা ২১৫.৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫৮০.৬১ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে এফটিএসই-১০০ সূচক ১১.১২ শতাংশ কমেছে।

জার্মানির শেয়ারবাজার ডেক্স ইনডেক্স এর সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩.৮৬ শতাংশ বা ৪৭৭.১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮৯০.৩৫ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ১২.৪৪ শতাংশ কমেছে।

ফ্রান্সের সিএসি-৪০ ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩.৩৮ শতাংশ বা ১৮৫.৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩০৯.৯০ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ১১.৯৪ শতাংশ কমেছে।

ইতালির স্টক এক্সচেঞ্জ এফটিএসই এমআইবি ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩.৫৮ শতাংশ বা ৮১৫.১৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১৯৮৪.২১ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ১১.২৬ শতাংশ কমেছে।

এশিয়ার শেয়ারবাজার:  ইউরোপ ও আমেরিকার শেয়ারবাজারের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাদ যায়নি এশিয়ার শেয়ারবাজারও। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে জাপানের শেয়ারবাজার নিক্কি ২২৫ এর সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩.৬৭ শতাংশ বা ৮০৫.২৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১১৪২.৯৬ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ৯.৫৯ শতাংশ কমেছে।

হংকংয়ের শেয়ারবাজার হ্যাং সেং এর সূচক আগের দিনের চেয়ে ২.৪২ শতাংশ বা ৬৪৮.৬৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৬১২৯.৯৩ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ৪.৩২ শতাংশ কমেছে।

চীনের শেয়ারবাজার সাংহাই সী কম্পোজিটের সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩.৭১ শতাংশ বা ১১১.০৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৮৮০.৩০ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ৫.২৪ শতাংশ কমেছে।

ভারতের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স-৩০ ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩.৬৪ শতাংশ বা ১৪৪৮.৩৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮২৯৭.২৯ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ৬.৯৮ শতাংশ কমেছে।

সিঙ্গাপুরের এফটিএসই স্ট্রেট টাইম ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩.২৩ শতাংশ বা ১০০.৬২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৩০১১.০৮ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে স্টক এক্সচেঞ্জটির সূচক ৫.৩৪ শতাংশ কমেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক হারিয়েছে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ এওয়াইএমএইচ রানা

Check Also

বাজার মূলধনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্টক এক্সচেঞ্জ

গ্লোবাল ইকোনমি ডটকমের পরিসংখ্যান অনুসারে বাজার মূলধনের দিক দিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৮তম। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *