Home / আজকের সংবাদ / পিপলস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান, এমডি গ্রেফতার

পিপলস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান, এমডি গ্রেফতার

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) সহযোগী হিসেবে তাদের গ্রেফতার করেছে দুদক।

আজ রোববার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার এ দুজন ছাড়াও পি কে হালদারের আরও দুই সহযোগীর জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও তারা আসেননি বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পি কে হালদার দুই সহযোগী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে দুদক।

প্রসঙ্গত, লিজিং কোম্পানির অর্থ লোপাটকারী প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) কানাডার টরেন্টোতে বিলাসী জীবনযাবন করছেন। সেখানে তিনি পাচার করা অর্থ দিয়ে বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। ওই দেশ থেকে তিনি মাঝেমধ্যে দুবাই ও ভারতে আসেন।

এখন তিনি দেশ দুটির কোনো একটিতে অবস্থান করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।

সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ নেই বললেই চলে। ফলে ঋণ পরিশোধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আর এর প্রধান কারিগর পিকে হালদার।

পিকে হালদার ২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন। দেশ থেকে টাকা জালিয়াতির পর ২০১৮ সালে দুই ভাই মিলে ভারতে হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে কোম্পানি খোলেন। কলকাতার মহাজাতি সদনে তাদের কার্যালয়।

আর কানাডায় পিঅ্যান্ডএল হাল হোল্ডিং ইনক নামে কোম্পানি খোলা হয় ২০১৪ সালে। যার পরিচালক পিকে হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম

Check Also

ফ্লোর প্রাইসের নতুন নির্দেশনা: আরও পরিস্কার ধারণা দিলো বিএসইসি

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ফ্লোর প্রাইস (Floor Price) বা গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন মূল্য প্রথা নিয়ে নতুন নির্দেশনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *